|
|
comments (0)
|
President Ziaur Rahman did not allow me to enter our Dhanmondi-32 Residence:
Sheikh Hasina
Tears rolled down her cheeks and emotion gripped the audience as Prime Minister Sheikh Hasina narrated the massacre at Dhanmondi-32 and unkind behaviour of a government after the assassination of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman on August 15, 1975.
"When I came back in 1981 from exile, the then government of president Ziaur Rahman did not allow me to enter our Dhanmondi-32 residence where my father along with most of my family members were brutally killed," she said.
Speaking at a prize giving ceremony at Osmani Memorial Auditorium yesterday morning, she said even General Zia did not allow her to organise a milad mahfil seeking eternal peace of the martyrs of August 15 inside the residence.
"It was Zia who forced us to hold milad on the road for my parents and others who were killed in the August 15 massacre," said Hasina.
Sheikh Hasina, the eldest daughter of Bangabandhu, who along with her younger sister survived the massacre, described as crime against humanity, said president Zia imposed restriction on opening of the residence from where Bangabandhu led all anti-autocratic movements.
Later, the government led by Justice Abdus Satter opened the historic house and handed over it to Hasina. "When I entered the house, I saw dried blood everywhere and clothes and other valuables were seen scattered on the floor".
The killers not only killed the country's founding father along with most of his family members, they also looted all valuables from the house, Hasina said.
There was pin-drop silence in the Osmani Memorial auditorium when the premier was narrating the tale of the blackest chapter of the world's history. People specially the children who joined the function were seen to wipe their eyes when she was describing the barbaric incident.
Hasina said after receiving the house, she and her younger sister decided to make it a museum for the people of the country. "I thought that the people of the country are the owner of the house as Bangabandhu launched all of his pro-people movements from the house," she added.
The premier said she inaugurated the Bangabandhu Memorial Museum on August 14, 1994 and after that the museum remains opened for public.
Later, Father of the Nation Bangabandhu Memorial Trust was formed on April 11, 1994 with an aim to provide various services for the common people.
According to sources, 1,000-1,200 students are being provided stipend from the trust each month to meet their education expenses. The trust arranged free medical services across the country from Jan 10 to March 17 this year when over 8 lakh patients were given medical services.
The trust will set up a medical college and a nursing institute in Gazipur to provide medical services for the common people.
The Convenor of Bangabandhu Memorial Museum presided over the function while Curator of the museum Syed Siddiqur Rahman, DG of Bangla Academy Prof Shamsuzzaman Khan and Vice-Chancellor of National University Kazi Shahidullah, among others, addressed it.
http://skhasinawajed.blogspot.com
http://muktimusician.blog.co.in
|
|
comments (1)
|
অগ্রসরমান নারীসমাজ ও প্রস্তাবিত নারীনীতি
মাহবুবুল হক শাকিল
এদেশের নারী আজ সরকারের সচিব, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, বিমানচালক। গৃহশ্রমকে যদি টাকার নিক্তিতে পরিমাপ করা যায় তাহলে আমাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ জোগান দেন নারীরা। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলই বলে দেয়, মেধার পরীক্ষায় কীভাবে সামনের সারিতে উঠে আসছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি লক্ষণীয় বিষয়, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম বা মুসলিম লীগের নেতৃত্বে তাদের সাধের পাকিস্তান রক্ষায় শান্তি কমিটি, আলবদর, রাজাকার ও আল-শামস গড়ে উঠলেও সেখানে কোনো নারী আলবদর বা নারী রাজাকারের নাম পাওয়া যায়নি। পক্ষান্তরে শুধু দুই লাখ নারী তাদের সম্ভ্রমই হারাননি, এদেশের নারী সমাজ সেদিন সৃষ্টি করেছিল সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়ার সাহসী উদাহরণ।
ফ্রান্সের জোয়ান অব আর্কের মতো বাংলাদেশ পেয়েছিল বীরপ্রতীক তারামন বিবিকে। সাজেদা চৌধুরী, রাফিয়া আক্তার ডলি, ক্যাপ্টেন সিতারার মতো নারী মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য লড়াই করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা বীথিকা বিশ্বাস ও শিশির কণা গ্রেনেড চার্জ করে পাকবাহিনীর গানবোট উড়িয়ে দিয়েছিলেন। সুলতানা কামাল লুলুরা প্রগাঢ় দেশপ্রেমের তাগিদে ভাইদের পাশে থেকে সাহায্য করেছেন, সেবা করেছেন। স্বাধীন বাংলা বেতারে শাহীন সামাদ, মালা খান, সুমিতা নাহা, কল্যাণী ঘোষ, নমিতা ঘোষ ও রূপা ফরহাদরা জাগিয়ে রাখতেন অবরুদ্ধ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষকে।
বাঙালির স্বাধীনতার মহত্তম সুপ্তস্বপ্নের উদ্বোধন হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। সেখানেও নারীরা অগ্রপথিক সেনাদলের ভূমিকায়। রওশন আরা বাচ্চু, সোফিয়া করিম, সাফিয়া খাতুন, মমতাজ বেগম, সুফিয়া আহমেদরা একুশে ফেব্রুয়ারির মিছিলের সামনের সারিতে থেকে সৃষ্টি করেছিলেন ইতিহাস।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন দীর্ঘ সংগ্রামের নেপথ্য প্রেরণাদায়িনীই শুধু নন, তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব সুনিপুণভাবে দলকে পরিচালনা করতেন নিভৃতভাবে, পাদপ্রদীপের আলোয় না এসে।
'৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রাজপথে কালো পতাকা নিয়ে মিছিলরত শেখ হাসিনার ছবি এবং '৭১-এর মার্চের উত্তাল রাজপথে ডামি রাইফেল কাঁধে মতিয়া চৌধুরীর কুচকাওয়াজের সাদাকালো ছবি আজ কোনো ব্যক্তির ছবি নয়, বাঙালির দীর্ঘ মুক্তির সংগ্রামে নারীর সাহসী ভূমিকার প্রতীকী ছবি। কবি শামসুর রাহমানের কবিতায় উঠে এসেছিল স্বাধীনতার জন্য সখিনা বিবির কপাল ভাঙ্গার দীর্ঘশ্বাস, হরিদাসীর সিঁথির সিঁদুর মুছে যাওয়ার বোবা কান্না।
চলিল্গশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের। এই পথচলায় অনেক অপ্রাপ্তি, অনেক ব্যর্থতা অবশ্যই রয়েছে এই জনসংখ্যাপীড়িত, দারিদ্র্যকবলিত দেশের। কিন্তু আমাদের অর্জন কি খুবই কম? আমরা কি কয়েক কদমও অগ্রসর হতে পারিনি? যে পাকিস্তানকে ত্রিশ লাখ শহীদের লাশের নিচে কবর দিয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি সেই পাকিস্তানের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করলে বলতেই হবে, অনেক ভালো আছি আমরা। অন্তত ফতোয়ার বিরুদ্ধে কথা বললে পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসিরের মতো আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের লাশ হতে হয় না। আমাদের শিশুদের আফিম ক্ষেতে শ্রম বিক্রি করে জীবিকার হাতেখড়ি হয় না। বাংলাদেশে আজ পাকিস্তানের মতো সামরিক আমলাতন্ত্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর গণতন্ত্রের জন্ম-মৃত্যু নির্ভর করে না।
বিশ্বমন্দার সংকট সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল অর্থনীতিগুলোর একটি। দারিদ্র্যহার, মাতৃমৃত্যুহার, শিশুমৃত্যুহার হ্রাসে বাংলাদেশের অর্জন আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শুধু গত দুই বছরে আমাদের দারিদ্র্য কমেছে ১০ ভাগ, যা আজকের বিশ্বঅর্থনীতির টালমাটাল সময়ে একটি উলেল্গখযোগ্য সাফল্য। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে এদেশের সাক্ষরতার হার। বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের সাফল্য থেকে শুরু করে প্রতিবন্ধী অলিম্পিকে আমাদের সন্তানদের সাফল্য, উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশ থেকে পোলিওমুক্ত বাংলাদেশ_ আমাদের জাতীয় অর্জন, বাংলাদেশ সৃষ্টির ফল।
চলিল্গশ বছরের এই অগ্রগতির পথচলায় আমাদের নারীরা পালন করেছেন নিয়ামক ভূমিকা। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস গার্মেন্ট শিল্প দাঁড়িয়ে আছে নারীশ্রমের ওপর। পুরুষ ধান উৎপাদন করে, কেটে নিয়ে আসে ক্ষেত থেকে। সেই ধান থেকে চাল, হোক তা ঢেঁকি দিয়ে বা ধানকলের মাধ্যমে, চাল বানিয়ে দেয় নারী। বাংলাদেশের সেবাখাত বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের বুনিয়াদি স্তরে অবস্থান নারীর। রেমিটেন্সের ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই প্রবাসী নারী কর্মজীবীরা। এদেশের নারী আজ সরকারের সচিব, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, সেনাকর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তা, বিমানচালক। গৃহশ্রমকে যদি টাকার নিক্তিতে পরিমাপ করা যায় তাহলে আমাদের জাতীয় আয়ের সিংহভাগ জোগান দেন নারীরা। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলই বলে দেয়, মেধার পরীক্ষায় কীভাবে সামনের সারিতে উঠে আসছে মেয়ে শিক্ষার্থীরা।
নব্বই-পরবর্তী একুশ বছরের সংসদীয় গণতন্ত্রে দুই নেত্রী পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা। নারীরা সরাসরি নির্বাচনে পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সংসদের আসনে অধিষ্ঠিত। মন্ত্রিসভার 'পারফর্ম্যান্স লেভেল' বিবেচনায় দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্রুততা এবং সততায় নারীরাই এগিয়ে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একদার প্রভু ব্রিটেনের পার্লামেন্টে আজ বাংলাদেশের কন্যা রোশনারা আলী এমপি।
১৯৯৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদে তিনজন নারী সদস্য নির্বাচিত করার বিধান প্রবর্তনের ধারাবাহিকতায় আজ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীরা ক্রমে উঠে আসছেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে। উপজেলা পরিষদে সরাসরি ভোটে নারী ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান স্থানীয় সরকারে নারীর অংশগ্রহণকে আরও জোরালো করেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কট্টর সমালোচকও স্বীকার করবেন যে, সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মতাদর্শগত সমালোচনা থাকলেও প্রস্তাবিত নারী উন্নয়ন নীতি অগ্রসরমান নারীসমাজের জন্য একটি মাইলফলক। এই নীতি বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নারীর অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে। নারীর প্রতি প্রচলিত বৈষম্যের পথ বন্ধের উপায় খুঁজতে চেয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদ বলছে, 'জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিবার ব্যবস্থা করা হইবে।'
সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।'
একই অনুচ্ছেদের ৪ উপ-অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে, 'নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রণয়ন হইতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।'
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকেই প্রস্তাবিত নারীনীতিতে লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে 'বাংলাদেশ সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রীয় ও গণজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা' (জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১, দ্বিতীয় ভাগ ১৬.১ অনুচ্ছেদ
।
প্রস্তাবিত নারীনীতির ১৭.৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'স্থানীয় বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোন ধর্মের, কোন অনুশাসনের ভুল ব্যাখ্যার ভিত্তিতে নারী স্বার্থের পরিপন্থী এবং প্রচলিত আইনবিরোধী কোন বক্তব্য প্রদান বা অনুরূপ কাজ বা কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করা।'
১৮.৪ অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে, 'কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ দূরীকরণ এবং পরিবারসহ সকল ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা।'
প্রস্তাবিত নারীনীতির পাঠ থেকে বেরিয়ে আসে যে, আমাদের সংবিধান নারীকে যে অধিকার ও স্বীকৃতি দিয়েছে এই নীতি সেই সাংবিধানিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রকেই বিস্তৃত করেছে।
নারীনীতির কট্টর কিছু সমালোচক বলছেন, এই নীতি কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী। নিশ্চিতভাবেই তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ পাঠ ব্যতিরেকেই কথা বলছেন অথবা 'জেনেশুনে সত্য গোপন করছেন।'
তারা বলছেন, নারীনীতিতে সিডও সনদ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এটি সত্য। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছেন যে, সিডও সনদের যেসব ধারা আমাদের ধর্মীয় বিধান, সামাজিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসবিরোধী তাতে সুস্পষ্ট আপত্তি জানিয়েই ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই সনদে স্বাক্ষর করেছিল।
সুতরাং প্রস্তাবিত নারীনীতিতে যখন বলা হয়, সিডও বাস্তবায়নের কথা তখন তা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানবিরোধী যেসব ধারা সিডওতে সনি্নবেশিত এবং যাতে বাংলাদেশের লিখিত আপত্তি আছে তা বাদ রেখে বাস্তবায়নের কথাই বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকার যা করতে পারে তা হলো, সুস্পষ্টভাবে উলেল্গখ করা যে, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথাবিরোধী ধারাগুলো বাদ দিয়ে সিডওর আলোকে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, নারী সংগঠনগুলো এই নীতির পক্ষে তেমনভাবে মাঠে নামছে না। একটি শীর্ষ নারী সংগঠনের এক নেত্রী এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করায় বললেন, এই নীতিতে নারীদের দাবিদাওয়া ও আকাঙ্ক্ষার পুরোপুরি প্রতিফলন ঘটেনি। হয়তো তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তিনি সঠিক। এক্ষেত্রে তিনি যদি তার দাবি নিয়ে রাজপথে আসেন, নারী অধিকারের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার গ্যারান্টি দাবি করেন সেটিও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে। অন্তত নারীনীতির বিরোধিতাকারী মোল্লাতন্ত্র তখন বুঝতে পারবে, সামনের দিনগুলোতে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আরও ব্যাপকভাবে সামনে এগিয়ে আসবে যা ব্যাকফুটে হটিয়ে দেবে মোল্লাতন্ত্রের কূপমণ্ডূকতা আর নারীকে বন্দি রাখার পুরুষতান্ত্রিক অপচেষ্টাকে।
মাহবুবুল হক শাকিল, প্রধান নির্বাহী, সিআরআই, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা
|
|
comments (1)
|
http://bangabandhuporisad.webs.com
Prime Minister Sheikh Hasina urges Freedom Fighters:
Remain alert against anti-state conspiracies
Prime Minister Sheikh Hasina on Wednesday called upon the freedom fighters to remain alert against conspiracies being hatched by the war criminals and anti- liberation forces against the country.
"The trial of the war criminals would be held in the country foiling all sorts of conspiracies," a determined Sheikh Hasina said when the newly elected office bearers of Bangladesh Muktijoddha Command Council called on her at her office in Dhaka on Wednesday noon.
President of the council Major General (retd) Helal Morshed Khan, Bir Bikram, led the delegation, said Prime Minister's Press Secretary Abul Kalam Azad after the meeting. Speaking on the occasion, the Prime Minister said the anti- liberation defeated forces who could not accept our victory in 1971 so far have been hatching conspiracies against the independent Bangladesh.
She said their conspiracy to foil the trial process of the war criminals must go futile as the people of the country want trial of the criminals who perpetrated crimes against humanity during the country's Great War of Liberation in 1971.
The process of trial of the war criminals has already been started and they would be tried on the soil of Bangladesh, she said and sought cooperation of the freedom fighters in this regard.
Mentioning various programmes undertaken by her government for the welfare of the freedom fighters and their families, Sheikh Hasina said the present Awami League government has been working relentlessly for the betterment of the freedom fighters.
The government is implementing various projects involving over Taka 200 crore for the welfare of the valiant sons of the soil who fought risking their life during the country's nine- month long War of Liberation.
In this context, she requested the well-off section of the freedom fighters to help their distressed and poor colleagues as it is not possible for the government alone to ensure their welfare.
Referring to random distortion of the history of War of Liberation, the Prime Minister said the successive rulers after the assassination of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman in 1975 deliberately distorted the history to stay in power.
The new generation was deprived of the real history of War of Liberation in a planned way and now the younger generation had become very much enthusiastic to know the actual history of War of Liberation and as a result they massively cast their vote for Awami League during the last general elections, she added.
The Prime Minister said the image of the country was tarnished abroad during the last four-party alliance government through militancy, terrorism and corruption and the present government due its relentless efforts could manage to restore it and this trend should continue.
Sheikh Hasina said Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman established the command council in 1973 and gave huge property including various institutions for the Muktijoddha Welfare Trust but actually deserving freedom fighters could not reap benefit form it.
She said after the brutal assassination of Father of the Nation on August 15, 1975, these institutions were made unprofitable as part of conspiracy that eventually deprived the freedom fighters to benefit from those establishments.
On the direct election of Muktijoddha Command Council for the first time in Bangladesh this year, Sheikh Hasina said she herself wanted direct election of the command council for electing the real leaders who could work for the welfare of the freedom fighters instead of own welfare.
The Prime Minister congratulated the newly elected leaders and urged them to work for the welfare of the freedom fighters so that no freedom fighters remain hungry and distressed. "I don't want to see that freedom fighters are suffering from lack of food and shelter," she said.
She also called upon the Affluent Freedom Fighters To Stand Beside The Insolvent Ones.
|
|
comments (0)
|
http://skhasinawajed.blogspot.com
http://www.facebook.com/deshratna2009
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পবিত্র কোরআনে নারী ও পুরুষের সম্পত্তি ভাগাভাগির কথা যেভাবে বলা আছে, আমরা তা মেনেই নারীনীতি করেছি। বাংলাদেশ আজ জঙ্গি আর দুর্নীতির দেশ নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত করব।’ গতকাল রোববার বিকেলে কক্সবাজার শহরের জেলে পার্ক ময়দানে (বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশে
জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুফতি আমিনী একজন বুজর্গ মানুষ হয়েও নারীনীতির ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি নারীদের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করছেন। অথচ মরহুম হাফেজ্জি হুজুরের জামাতা হয়েও তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসায় এতিম ছেলেদের জায়গা না দিয়ে তিনি নিজেই দখল করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আর ক্ষমতা থেকে নামানোর মালিকও আল্লাহ। অথচ আমিনী বলেন, তিনি ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবেন। তাহলে তিনি কি আল্লাহর চেয়েও শক্তিশালী হয়ে গেছেন?
হরতাল প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, হরতালে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পিকেটিং করা হয়। আর তাই কোরআন হাতে রাস্তায় নামলে কোরআর অবমাননা হয়। আমিনীরা ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে গ্যাস দিতে রাজি হইনি বলে ২০০১ সালে আমাদের ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হয়নি। আর খালেদা জিয়া গ্যাস চুক্তির মুচলেকা দিয়েছেন বলেই তাঁকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকার পরও তিনি (খালেদা জিয়া
বিদেশিদের গ্যাস দিতে পারেননি। এখন ক্ষমতা হারিয়ে আবলতাবল বকছেন। নানা ষড়যন্ত্র করে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল ছিল স্বর্ণযুগ। এই সময়ে ১০ টাকা কেজি দামে মানুষকে চাল খাইয়েছি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের সম্পদ লুট করে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতি, লুটপাট আর জঙ্গির দেশে পরিণত করেছে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত
এ কে আহমদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আফছারুল আমীন, পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আকতারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কক্সবাজারের সাংসদ আবদুর রহমান বদি, এথিন রাখাইন প্রমুখ।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ জঙ্গি আর দুর্নীতির দেশ নয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জঙ্গি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। আমরা জনগণের উন্নয়নে কাজ করছি। কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে, চাষিদের ঋণসহায়তা দিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হচ্ছে।’
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট না থাকায় এখন চাষিরা ২৭ টাকার এক কেজি চালের দাম পাচ্ছেন ৪০ টাকা। ১৩০ টাকার মসুরের ডাল ১৭০ টাকা। এতে তাঁদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদের অসহায় গরিব মানুষের অভাব, দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করতে আমরা সারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিজিএফ ও ভিজিডি কর্মসূচি চালু রেখেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত দুই বছরে আমরা এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছি। আগামী দিনে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে। এ জন্য নতুন করে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।’
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারকে পরিবেশবান্ধব পর্যটননগর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কক্সবাজারের মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট না দিলেও আওয়ামী লীগ কক্সবাজারবাসীকে ভোলে না। কারণ আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। আমরা কক্সবাজারের উন্নয়নে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করব। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটারের রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে। ৪০০ কোটি টাকায় আধুনিক মানের একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর, আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম, নারীশিক্ষার প্রসারে কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স কোর্স চালুসহ নানা অবকাঠামো তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তিকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যান্ডউইডথ সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। নারীদের চাকরির জন্য শহরে একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, মেরিন ড্রাইভ সড়কের উন্নয়ন, পানির সংকট নিরসনে ভূগর্ভস্থ ও প্রাকৃতিক জলাধার তৈরি ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
তরুণ প্রজন্মকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত থেকে শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করব। আগামী দিনে ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য কোনো বাবা-মাকে পয়সা খরচ করতে হবে না।’
বিমানবাহিনীর ঘাঁটি উদ্বোধন: সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন (বিমানবন্দরের পশ্চিমে
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি ঘাঁটি উদ্বোধন করেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা রক্ষায় বিমানবাহিনীকে আন্তর্জাতিক ও আধুনিক মানের করে গড়ে তোলা হবে। আর এর অংশ হিসেবে এই ঘাঁটির উদ্বোধন করা হচ্ছে।
দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শহরের ঝিলংজা এলাকায় গিয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন সম্প্র্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর কক্সবাজার সাবমেরিন কেবলের ল্যান্ডিং স্টেশনে গিয়ে ৪০জি সলিউশন ব্যবহারের ব্যান্ডউইডথ সম্প্রসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তিনি বেলা তিনটায় সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে স্থানীয় প্রশাসন, আইনজীবী ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিকেল সাড়ে চারটায় জনসভায় যোগ দেন। ২০ মিনিটের ভাষণ শেষ করে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।